গভির রাতে তাহাজ্জুদের সালাতের সময় জিন কেন মানুষকে স্পর্শ করে?

আসসালামু আলাইকুম রাহমাতুল্লাহ।

প্রিয় আলোর পথে দর্শক মন্ডলী আশাকরি আপনারা সবাই আল্লাহর তাআলার অশেষ রহমতে ভালো আছেন।

প্রিয় দ্বীনি ভাই বোনেরা তাহাজ্জুদের সালাত পড়লে অনেক মানুষ বলে থাকে যে জিন আসে শয়তান আসে। শয়তান তাদেরকে ভয় দেখায়। সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। অথবা আপনি অনুভব করতে পারেন আপনার আশেপাশে কে যেন হাঁটছে। আপনাকে ডাকছে। আপনাকে স্পর্শ করতে চাচ্ছে।
এইরকম কথা অনেক মানুষই বলে থাকে। এখন আমরা কোরআন এবং হাদিস দিয়ে যাচাই করে নিব আসলেই কি শয়তান ভয় দেখায় কিনা?

তাহাজ্জুদের সময় ফেরেশতারা সব সময় উপস্থিত থাকে অর্থাৎ তাহাজ্জুদ সালাতের সময় ফেরেস্তারা আপনার কাজের জন্য সহযোগিতা করে। রহমতের ফেরেশতারা আপনাকে গাইড লাইন দেয়। তারমানে এই হাদীস বলছে যে তাহাজ্জুদের সময় ফেরেশতারা উপস্থিত থাকে। তারা হলো আপনার বডিগার্ড।

তাহাজ্জুদের সালাত পড়লে শরীরের রোগ দূর হয়। হাদীসে এসেছে, এই সালাত গুনা থেকে বাঁচিয়ে রাখবে এবং শরীরের রোগ দূর করবে। আলহামদুলিল্লাহ।

তারমানে তাহাজ্জুদের সালাত পড়লে ফেরেশতারা আপনাকে সাহায্য করছে। আর আপনার গুনাহ মোচন হচ্ছে এবং রোগ থেকে বাঁচিয়ে তুলছে।

আপনি যদি তাহাজ্জুদের সালাত আদায়কারী হন তবে আপনার জন্য সুসংবাদ আল্লাহ নিজেই আপনার জন্য প্রশংসা করবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, যে ব্যক্তি রাতে সেজদারত বা দাঁড়ানো থাকে আখিরাতকে ভয় করে এবং নিজ প্রতিপালকের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে সে কি তার সমান হতে পারে? যে এমনটি করে না? না সুতরাং যে সালাত পড়ে এবং যে সালাত পড়ে না দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। যারা নিজের নফসকে গুনা থেকে কন্ট্রোল করতে সক্ষম হন না তাদের জন্য এই তাহাজ্জুদের সালাত।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, নিশ্চয়ই রাত্রে জাগরণকারী প্রভৃতি দমনের অত্যন্ত কার্যকরী। সুবাহানাল্লাহ।

সুতরাং এ থেকে আমরা বুঝতে পারি রাত্রের বেলা তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলে জ্বীন শয়তান পেত্নী আত্মা এসবকিছুই আপনাকে স্পর্শ করতে পারে না। আপনাকে ধ্বংস করতে পারেনা। আপনাকে ভয় দেখাতে পারে না।

ঘুমের সময় শয়তান আমাদেরকে তিনটি গিট দিয়ে যায়। সেই তিনটি গিট খোলার সময় আপনাকে উঠে দোয়া করতে হবে। অজু করতে হবে এবং চোখে মুখে হাত বুলাতে হবে। এসব কাজ করলে শয়তান থেকে বেঁচে যাবেন। যারা বলে ভয় দেখায় এটা মূলত শয়তানের চক্রান্ত। এর থেকে আপনারা সাবধান থাকবেন। কারণ শয়তান চায় আপনি যেন তাহাজ্জুদের সালাত না আদায় করেন।

তাহাজ্জুদের দ্বারা জান্নাত লাভ হয়। রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন হে লোক সকল তোমরা সালামের প্রচলন করো। খাবার দান করো এবং আত্মীয়তা রক্ষা করো। আর মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তোমরা সালাত আদায় করো। তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে। সুবাহানাল্লাহ।

প্রিয় আলোর পথে দর্শক মন্ডলী সুতরাং আপনারাও তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করবেন।কেননা তাহাজ্জুদের সময় আল্লাহ তাআলার নিকট পৌঁছানো যায়।

ধন্যবাদ।